জমজমের পানি পান করার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহহি ওয়া বারাকাতুহু আপনার প্রশ্ন “ জমজমের পানি পান করার নিয়ম কি?”

বিসমিল্লাহ, ওয়াল হামুদুল্লিাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আল রাসুল্লিাহ যমযমের পানি পানের শিষ্টাচার সম্পর্কে ইবন আব্বাস রা. বলেন,

إِذَا شَرِبْتَ مِنْهَا، فَاسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ، وَاذْكُرِ اسْمَ اللهِ، وَتَنَفَّسْ ثَلاَثًا، وَتَضَلَّعْ مِنْهَا، فَإِذَا فَرَغْتَ، فَاحْمَدِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ آيَةَ مَا بَيْنَنَا، وَبَيْنَ الْمُنَافِقِينَ، إِنَّهُمْ لاَ يَتَضَلَّعُونَ مِنْ زَمْزَمَ

“যখন তুমি যমযমের পানি পান করবে, তখন কেবলামুখী হবে, আল্লাহকে স্মরণ করবে এবং তিন বার নিঃশ্বাস নেবে। তুমি তা পেট পুরে খাবে এবং শেষ হলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য এই যে, মুনাফিকরা পেট ভরে যমযমের পানি পান করে না।” [ইবন মাজাহ, আস—সুনান, ৩০৬১]

হাদীসটি থেকে ৫ টি আদব জানা যাচ্ছে:

  • কেবলামুখী হওয়া
  • বিসমিল্লাহ বলা/আল্লাহকে স্মরণ করা
  • তিন শ্বাসে পান করা
  • পেট ভরে পান করা
  • পান করা শেষে আল—হামুদিল্লাহ বলা/অল্লাহর প্রশংসা করা।

আল্লাহু আ‘লামু বিস—সাওয়াব। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহহি ওয়া বারাকাতুহু

জমজমের পানি পান করার নিয়ম।

জমজমের পানি কী দাঁড়িয়ে পান করতে হয়?

পানি পান করার সুন্নাহ হচ্ছে, বসে পানি পান করা। তবে জমজমের পানি রাসূলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে পান করেছেন। বুখারী ও মুসলিমে অনুরূপ বর্ণনা পরিলক্ষিত হয়। ইবন আব্বাস (রা.) বলেন,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ شَرِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا مِنْ زَمْزَمَ

“ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) জমজম কূপ থেকে পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন।” [বুখারী, আস—সহীহ, ৫২৯৪]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ مِنْ زَمْزَمَ مِنْ دَلْوٍ مِنْهَا وَهُوَ.

“ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (সা.) জমজম কূপ থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলে দাঁড়িয়ে পান করেছেন।” [মুসলিম, আস—সহীহ, ৫১০৯]

তাই জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে আলিমদের অনেকে উত্তম মনে করেন। অবশ্য কারো কারো মতানুযায়ী নবী (সা.) প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে জমজমের পানি দাড়িঁয়ে পান করেছেন। এভাবে জরুরি নয়।

জমজমের পানি পানের সময় কোনো দোয়া আছে কী?

যমযমের পানি পানের পূর্বে বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) একটি দো‘আ পড়তেন,

اللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ.

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, বিস্তৃত সম্পদ ও সকল রোগ থেকে আরোগ্য চাই।’ [আহমদ, আল—মুসনাদ, ৩/৩৯৪]

ডবশিষ্ট সাহাবী জাবির ইবন আব্দিল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ

“আমি রসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি, যমযমের পানি যে নিয়্যাতে পান করা হবে সে নিয়্যাত পূর্ণ হওয়ায় ফলপ্রসূ। [ইবন মাজাহ, আস—সুনান, ২/৩০৬২]

ইমাম শাওকানী (রহ.) এ হাদীসের মর্মার্থ করেছেন, যমযমের পানি যে উপকার লাভের আশায় পান করা হবে, তা অর্জিত হবে, তা পার্থিব কোনো কিছু হোক বা আখিরাতের হোক। [আশ—শাওকানী, নাইলুল আওতারা, ৫/১০৫]

এ জন্য পূর্বসূরি মনীষীরাও জমজমের পানি পানের সময় বিভিন্ন দোয়া করতেন।

বিখ্যাত তাবি তাবিঈ আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক (রহ.) জমজমের পানি পান করে দোয়া পড়েছেন

اللهم أني أشربه لعطش يوم القيامة

“হে আল্লাহ! আমি তা পান করছি কিয়ামতের দিবসের পিপাসা নিবারনের জন্য।” [আল—খতিব, তারিখ দিমাশক, ৩২/৪৩৬]

আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, হাফিজ ইবন হাজার আসকালানি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জমজমের পানি পান করেছিলাম স্মৃতিশক্তিতে হাফিজ শামসুদ্দিন জাহাবি (রহ.) এর স্তরে পৌঁছার নিয়তে। সুয়ুতি বলেন, ইবনে হাজার ওই স্তরে পৌঁছেছিলেন; বরং তার স্মৃতিশক্তি আরো অধিক প্রখর হয়েছিল। [তাবাকাতুল হুফফাজ : ১/৫২২]

জমজমের পানি পানের পূর্বে বিসমিল্লাহ/আল্লাহকে স্মরণ করা এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করা/আল—হামুদিল্লাহ বলা সুন্নাহ। ইবন আব্বাস (রা.) অনুরূপ শিষ্টাচারের কথা উল্লেখ করেছেন।

Hijaz Hajj & Umrah Kafela service area map

Apply for an Umrah visa and experience the hassle-free journey to the city of Makkah.

Arrow