ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর মধ্যে আরাফার দিন (ইয়াওমে আরাফা) বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন।
এটি জিলহজ মাসের ৯ তারিখে পালিত হয় এবং হজের অন্যতম প্রধান দিন হিসেবে বিবেচিত। এই দিনে আল্লাহ তাআলার রহমত,
ক্ষমা ও বরকত বিশেষভাবে নাযিল হয়।
আরাফার দিনের প্রকৃত তাৎপর্য সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করা যায়
হজের সময় আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মুসলমান
এই দিনে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া, তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাই মুসলমানদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত
তাৎপর্যপূর্ণ।
অর্থ: “সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। আর আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে
উত্তম বাক্য বলেছেন তা হলো— ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সমস্ত রাজত্ব তাঁর
এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।’”
আরাফার দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় আল্লাহর সামনে মানুষের বিনয়, তওবা এবং তাঁর কাছে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তা।
এই দিনে করা দোয়া, ইবাদত ও তওবা মানুষের জীবনে নতুন আশা এবং আত্মিক শক্তি এনে দেয়।
আরাফার দিন বলতে মূলত জিলহজ মাসের ৯ তারিখকে বোঝায়। এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন এবং
হজের প্রধান রুকন সম্পন্ন হয় এই দিনে। হজ পালনকারী মুসলমানরা এই দিনে
ময়দানে আরাফাতে অবস্থান করেন, যাকে বলা হয় “ওকুফে আরাফা”।
ইসলামের ইতিহাসে এটি এমন একটি মুহূর্ত যখন লাখো হাজী একসাথে আল্লাহর কাছে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“الحج عرفة”
Transliteration: Al-Hajju ‘Arafah
বাংলা অর্থ: “হজ হলো আরাফা।” — (সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯, আবু দাউদ: ১৯৪৯)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে
আরাফায় অবস্থান করা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আরাফার দিনের গুরুত্ব
ইসলামের দৃষ্টিতে আরাফার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই দিনটি শুধু হজ পালনকারীদের জন্য নয়, বরং পৃথিবীর সকল
মুসলমানের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
১
দ্বীনের পূর্ণতা ও আল্লাহর নেয়ামত: আরাফার দিনের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ঘটনা হলো—এই দিনেই
বিদায় হজের সময় আল্লাহ তাআলা ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ দ্বীন হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন সূরা আল-মায়িদার ৩ নম্বর আয়াত
নাজিল হয়।
Transliteration:Al-yawma akmaltu lakum dīnakum wa atmamtu ‘alaykum ni‘matī wa raḍītu lakumul-islāma dīnā.
বাংলা অর্থ: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার
নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”—
সূরা আল-মায়িদা: ৩
২
হজের প্রধান রুকন: আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে
বলেছেন:
“الحَجُّ عَرَفَةُ“
Transliteration:Al-Ḥajju ‘Arafah.
বাংলা অর্থ: “হজ হলো আরাফা।” —
সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯, আবু দাউদ: ১৯৪৯
অর্থাৎ, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ছাড়া হজ সম্পূর্ণ হয় না। এজন্যই বলা হয়
হজের মূল স্তম্ভই হলো আরাফা।
৩
রোজা বা সাওমের বিশেষ ফজিলত: যারা হজে নেই তাদের জন্য আরাফার দিনের রোজা রাখা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
Transliteration:Mā min yawmin akthara min an yu‘tiqa-llāhu fīhi ‘abdan mina-n-nār min yawmi ‘Arafah.
বাংলা অর্থ: “আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ এত বেশি বান্দাকে জাহান্নাম
থেকে মুক্তি দেন।”— সহীহ মুসলিম: ১৩৪৮
৫
দুআ কবুলের শ্রেষ্ঠ দিন: আরাফার দিন দোয়া ও জিকিরের জন্য সবচেয়ে উত্তম সময়। এই দিনে
বান্দারা আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা অনেক বেশি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
বাংলা অর্থ: “সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।”—
সুনানে তিরমিজি: ৩৫৮৫
৬
আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ: আরাফার দিন একজন মুসলমানের জন্য আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর
কাছে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই এই দিনে বেশি বেশি—
তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ)
তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)
তাকবির (আল্লাহু আকবার)
দোয়া ও ইস্তিগফার
রোজা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
আরাফার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি দোয়া
আরাফার দিন দোয়া কবুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। তাই এই দিনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, হেদায়েত, রহমত এবং
দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। নিচে আরাফার দিনে পড়ার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
দেওয়া হলো।
Transliteration: Lā ilāha illallāhu waḥdahu lā sharīka lah, lahul mulku wa lahul ḥamd, wa
huwa ‘alā kulli shay’in qadīr.
বাংলা অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সমস্ত রাজত্ব তাঁর
এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।— সুনানে তিরমিজি: ৩৫৮৫
বাংলা অর্থ: হে আমার রব! আমার পিতা-মাতার উপর দয়া করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন
করেছেন।— সূরা আল-ইসরা: ২৪
১০
ইস্তিগফারের দোয়া
“أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ”
Transliteration: Astaghfirullāha wa atūbu ilayh.
বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি।—
সহীহ বুখারি: ৬৩০৭
পরামর্শ: আরাফার দিনে এই দোয়াগুলো বারবার পড়া, তাসবীহ-তাহলীল করা এবং আল্লাহর কাছে
আন্তরিকভাবে তওবা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এই দিনটি মুসলমানদের জন্য গুনাহ মাফ, রহমত লাভ এবং আল্লাহর নৈকট্য
অর্জনের একটি বড় সুযোগ।
আরাফার দিনের রোজার ফজিলত
আরাফার দিনের আরেকটি বড় আমল হলো রোজা রাখা। যারা হজে নেই তাদের জন্য এই দিনের রোজা রাখা
অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।”— (সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে আরাফার দিনের রোজা একজন মুসলমানের জীবনে বড় ধরনের আধ্যাত্মিক লাভ এনে দেয়।
আরাফার দিনের বিশেষ ফজিলত হলো:
এটি সর্বোত্তম দোয়ার দিন
অনেক গুনাহ মাফ করা হয়
অনেক মানুষ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায়
আল্লাহ বান্দাদের ক্ষমা করেন
আরাফার দিনের করণীয় আমল সমূহ
আরাফার দিন মুসলমানদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই দিনে ইবাদত, দোয়া ও তওবার একটি বিশেষ সুযোগ।
বেশি বেশি দোয়া করা: এই দিনটি দোয়া কবুলের অন্যতম উত্তম সময়। তাই নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া করা
উচিত।
তাওবা করা: আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসা এই দিনের অন্যতম
আমল।
তাকবির পড়া: এই সময়ে বেশি বেশি বলা:
الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد (আল্লাহু আকবার,
আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।)
কুরআন তিলাওয়াত: এই দিনে কুরআন পড়া এবং তার অর্থ নিয়ে চিন্তা করা অত্যন্ত বরকতময় কাজ।
জিকির করা: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি জিকির বেশি বেশি করা উচিত।
আরাফার দিন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
নিম্নোক্ত হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে আরাফার দিন আল্লাহর বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির দিন। তাই এই দিনে বেশি
বেশি দোয়া, তওবা এবং আল্লাহর স্মরণে সময় কাটানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
বাংলা অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আরাফার ময়দানে অবস্থানকারী বান্দাদের নিয়ে আকাশবাসীদের
(ফেরেশতাদের) সামনে গর্ব করেন এবং বলেন—দেখো, আমার বান্দারা অগোছালো চুল ও ধূলিধূসর অবস্থায় আমার কাছে এসেছে।”—
সহীহ মুসলিম: ১৩৪৮
Transliteration:Mā min yawmin akthara min an yu‘tiqa-llāhu fīhi ‘abdan mina-n-nār min yawmi ‘Arafah.
বাংলা অর্থ: “আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ এত বেশি বান্দাকে জাহান্নাম
থেকে মুক্তি দেন।”— সহীহ মুসলিম: ১৩৪৮
যারা হজে নেই তারা কীভাবে আরাফার দিন পালন করবে?
সব মুসলমান হজে যেতে পারেন না। কিন্তু যারা হজে নেই তারাও এই দিনের ফজিলত অর্জন করতে পারেন। এভাবে একজন মুসলমান
নিজের ঘরে থেকেও এই দিনের বরকত লাভ করতে পারেন। তারা এই দিনটি পালন করতে পারেন:
আরাফার দিনের রোজা রেখে
বেশি বেশি দোয়া করে
কুরআন তিলাওয়াত করে
জিকির ও তাসবিহ পড়ে
দান-সদকা করে
আরাফার দিনের দোয়া কখন বেশি কবুল হয়?
হাদিস অনুযায়ী আরাফার দিনের দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় বিশেষভাবে দোয়া কবুলের সময়
হিসেবে বিবেচিত। এই সময়ে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং আন্তরিক দোয়া কবুল করেন। তাই
এই সময়ে আল্লাহর কাছে নিজের জীবনের প্রয়োজন, ক্ষমা এবং কল্যাণ কামনা করা উচিত।
আরাফা দিবসে মুসলমানদের শিক্ষা
আরাফার দিন মুসলমানদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আসে। এটি এমন একটি দিন যা মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর
প্রতি ভালোবাসা এবং ভয় উভয়ই জাগিয়ে তোলে। এই দিন আমাদের শেখায়:
আল্লাহর সামনে বিনয়ী হতে
গুনাহ থেকে ফিরে আসতে
মানুষের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখাতে
আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখতে
২০২৬ সালে আরাফার দিন কবে?
ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জিলহজ মাসের ৯ তারিখে আরাফার দিন পালন করা হয়। চাঁদ দেখার উপর
নির্ভর করে ২০২৬ সালে সম্ভাব্যভাবে ২৬ মে ২০২৬ (মঙ্গলবার) আরাফার দিন হতে পারে।
তবে এটি চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই মুসলমানদের উচিত জিলহজ মাস শুরু হলে এই গুরুত্বপূর্ণ
দিনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা।
হজ পালনের স্বপ্ন পূরণ করতে চান?
হজ মুসলমানদের জীবনের অন্যতম বড় ইবাদত। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ পবিত্র মক্কা ও মদিনায় হজ
পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আপনি যদি আগামী বছর হজ পালনের পরিকল্পনা করেন, তাহলে সঠিক প্রস্তুতি এবং
নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হিজাজ হজ্জ ওমরাহ লিমিটেড বাংলাদেশের একটি
বিশ্বস্ত হজ ও উমরাহ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। অভিজ্ঞ টিম, সঠিক গাইডলাইন এবং আরামদায়ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা হাজীদের হজ যাত্রাকে সহজ ও নিরাপদ করার
চেষ্টা করি।
আরাফার দিন হলো ইসলামী ক্যালেন্ডারের জিলহজ মাসের ৯ তারিখ। এই দিনটি হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
দিন, যখন হাজীরা ময়দানে আরাফাতে অবস্থান করেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি দোয়া, তওবা এবং আল্লাহর কাছে
ক্ষমা চাওয়ার বিশেষ দিন।
হাদিস অনুযায়ী আরাফার দিনের সবচেয়ে উত্তম দোয়া হলো:
“لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ
عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ”
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা
কুল্লি শায়ইন কাদির)। এই দোয়ার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করে এবং তাঁর প্রশংসা করে।
রাসূল (সা.) বলেছেন, আরাফার দিনের রোজা আগের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়। তাই
যারা হজে নেই তাদের জন্য এই দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।
এই দিনে বেশি বেশি দোয়া করা, তওবা করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, তাকবির পড়া এবং আল্লাহর জিকির করা
উত্তম আমল। পাশাপাশি দান-সদকা করাও এই দিনের বরকত বাড়ায়।
আরাফার দিনে দুপুর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই
সময়ে আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা বেশি থাকে।
হ্যাঁ, যারা হজে নেই তারাও আরাফার দিনের ফজিলত পেতে পারে। তারা এই দিনে রোজা রাখতে পারে, বেশি বেশি
দোয়া ও জিকির করতে পারে এবং আল্লাহর কাছে তওবা করতে পারে।
আরাফার দিনকে ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয় কারণ এটি হজের প্রধান দিন এবং এই দিনে আল্লাহ
অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন। হাদিসে বলা হয়েছে, এই দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে
মুক্তি দেন।
আরাফার দিনে যে কোনো ভালো দোয়া করা যায়। তবে তাওবা, ক্ষমা প্রার্থনা, রিজিক, সুস্থতা, ঈমানের দৃঢ়তা
এবং জান্নাত লাভের জন্য দোয়া করা বিশেষভাবে উত্তম।
জিলহজের প্রথম দশ দিনে এবং বিশেষ করে আরাফার দিনে বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নত। যেমন:
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার,
ওয়ালিল্লাহিল হামদ।”
না, আরাফার দিনের দোয়া শুধু হাজীদের জন্য নয়। পৃথিবীর যেকোনো মুসলমান এই দিনে আল্লাহর কাছে দোয়া
করতে পারে এবং এই দিনের ফজিলত লাভ করতে পারে।
হজ প্যাকেজ খুঁজছেন?
বিস্তারিত জানতে আজই হিজাজ হজ্জ ওমরাহ লিমিটেড-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
Find your nearby Hajj & Umrah agency associated with Hijaz Hajj Umrah Ltd. Bangladesh. Identify the trusted Umrah agents in your area and get in touch with them to facilitate your next holy journey to Makkah and Madina.