কুরআন ও হাদিসের আলোকে বদলি হজের বিধান ও আদায়ের সঠিক পদ্ধতি
বাবা বা মা জীবনের শেষ বয়সে পৌঁছে গেছেন। আর্থিকভাবে হজ করার সামর্থ্য আছে, কিন্তু শারীরিক অবস্থা এমন যে মক্কায় গিয়ে হজের আমল করা আর সম্ভব নয়। আবার এমনও হয়, একজনের ওপর হজ ফরজ হয়েছিল কিন্তু হজে যাওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—তাঁর হয়ে অন্য কেউ কি হজ করতে পারবেন?
ইসলামে শরিয়তসম্মত কারণে কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে অন্য একজনের হজ আদায় করাকে সাধারণভাবে বদলি হজ বা হজে বদল (Hajj al-Badal) বলা হয়। তবে যে কেউ ইচ্ছা করলেই নিজের পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে ফরজ হজ করাতে পারেন না। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। কেউ ইন্তেকাল করেছেন, অথচ তাঁর ওপর হজ ফরজ ছিল।
আবার কেউ জীবিত আছেন, কিন্তু অতিরিক্ত বার্ধক্য বা স্থায়ী অসুস্থতার কারণে নিজে হজ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন। এ ধরনের অবস্থায় শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বদলি হজের সুযোগ রয়েছে। কুরআন, সহিহ হাদিস এবং বিশেষভাবে হানাফি ফিকহের আলোকে বদলি হজের বিধান ও আদায়ের সঠিক পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো।
বদলি হজের বৈধতা সহিহ হাদিস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ স্থায়ীভাবে অক্ষম বৃদ্ধ ব্যক্তির পক্ষ থেকে এবং মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতি দিয়েছেন। তাই শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে বদলি হজ আদায় করা বৈধ। নিচে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এর প্রধান দলিলগুলো তুলে ধরা হলো। ইসলামে হজ ফরজ হওয়ার মূল ভিত্তি কুরআনেই এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
অর্থ: “মানুষের মধ্যে যার সেখানে পৌঁছানোর সামর্থ্য আছে, আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা তার ওপর অবশ্য কর্তব্য।”
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৭)
এ আয়াতে সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর হজের ফরজিয়াত স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে কেউ হজ ফরজ হওয়ার পর এমন স্থায়ী অক্ষমতায় পড়তে পারেন, যখন তাঁর নিজের পক্ষে হজ করা আর সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে হজ আদায়ের সরাসরি নির্দেশনা আমরা হাদিসে পাই।
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ করার দলিল
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জুহাইনা গোত্রের এক নারী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে তাঁর মৃত মায়ের পক্ষ থেকে হজ করার বিষয়ে জানতে চান। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
অর্থ: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জুহাইনা গোত্রের এক নারী নবী ﷺ-এর কাছে এসে বললেন, “আমার মা হজ করার মানত করেছিলেন। কিন্তু হজ করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করব?” রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করো। বলো তো, তোমার মায়ের ওপর কোনো ঋণ থাকলে তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? আল্লাহর পাওনা আদায় করো; কারণ আল্লাহর পাওনা পূরণ করাই অধিক হকদার।”(সহিহ আল-বুখারি, হাদিস নং ১৮৫২)
হাদিসটিতে ওই নারীর মা হজের মানত করেছিলেন কিন্তু হজ করার আগেই ইন্তেকাল করেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতি দেন এবং বিষয়টিকে ঋণ পরিশোধের সঙ্গে তুলনা করেন।
জীবিত কিন্তু স্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তির বদলি হজ
বিদায় হজের সময় খাসআম গোত্রের এক নারী তাঁর অতিবৃদ্ধ বাবার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে জানতে চান।
“حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ الْفَضْلُ رَدِيفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَتِ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ، فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ، وَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الآخَرِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا، لاَ يَثْبُتُ عَلَى الرَّاحِلَةِ، أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ "نَعَمْ". وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ.”
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ফজল (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পেছনে বাহনে বসেছিলেন। এ সময় খাসআম গোত্রের এক নারী এলেন। ফজল (রা.) তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং তিনিও ফজলের দিকে তাকাচ্ছিলেন। নবী ﷺ ফজল (রা.)-এর মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিলেন। এরপর নারীটি বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর যে হজ ফরজ করেছেন, তা আমার বাবার ওপর এমন অবস্থায় এসেছে যখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ। তিনি বাহনের ওপর স্থির হয়ে বসতে পারেন না। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ করব?” রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “হ্যাঁ।” ঘটনাটি বিদায় হজের সময় ঘটেছিল।
(সহিহ আল-বুখারি, হাদিস নং ১৫১৩)।
এই হাদিস বদলি হজের অন্যতম প্রধান দলিল। অর্থাৎ জীবিত ব্যক্তির অক্ষমতা যদি স্থায়ী হয় এবং তাঁর নিজের পক্ষে হজ করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ করতে পারেন।
বদলি হজ কার পক্ষ থেকে করা যাবে?
বদলি হজ সবার পক্ষ থেকে করা যায় না। শরিয়তে মূলত এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজের সুযোগ রয়েছে, যিনি নিজে হজ আদায় করতে স্থায়ীভাবে অক্ষম অথবা হজের দায়িত্ব রেখে ইন্তেকাল করেছেন। তাই শুধু বয়স, ব্যস্ততা বা সাময়িক অসুস্থতার কারণে অন্য কাউকে দিয়ে হজ করানো যথেষ্ট নয়।
১.
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে
কোনো ব্যক্তি ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে হজ আদায়ের শরয়ি কারণ রয়েছে—এমন ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে অন্য ব্যক্তি হজ করতে পারেন। তবে এখানে অসিয়ত ও সম্পদের বিধান আলাদা করে বুঝতে হবে। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি যদি তাঁর ফরজ হজ বদলি আদায়ের অসিয়ত করে যান, তাহলে কাফন-দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে অসিয়ত কার্যকর করার বিধান আসে।
এক-তৃতীয়াংশ যথেষ্ট না হলে প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশরা চাইলে নিজেদের অর্থ দিয়ে বাকি খরচ পূরণ করতে পারেন। মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশদের ওপর তাঁর সম্পদ থেকে বদলি হজের খরচ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে তাঁরা নিজেদের অর্থ দিয়ে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ বা নফল হজ করে সওয়াব পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারেন।
২.
অতিবৃদ্ধ ও স্থায়ীভাবে অক্ষম জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে
জীবিত ব্যক্তি যদি এত বেশি বয়স্ক হন যে তাঁর পক্ষে হজের সফর ও প্রয়োজনীয় আমল সম্পন্ন করা আর সম্ভব নয়, তাহলে তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ করতে পারেন। খাসআম গোত্রের নারীর হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর অতিবৃদ্ধ বাবার পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
৩.
এমন দীর্ঘস্থায়ী রোগী যার সুস্থ হওয়ার আশা নেই
কেউ যদি এমন গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হন, যার কারণে ভবিষ্যতেও তাঁর নিজের পক্ষে হজে যাওয়া বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব নয়, তাহলে শরয়ি শর্ত পূরণ করে তাঁর পক্ষ থেকে বদলি হজ করা যেতে পারে। তবে রোগটি সাময়িক নাকি স্থায়ী—এটি পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
বদলি হজের শর্তাবলী কী কী?
যিনি বদলি হজ আদায় করবেন, তাঁকে ফিকহের ভাষায় কখনও মামুর বা প্রতিনিধি বলা হয়। বদলি হজ আদায়ের আগে কয়েকটি শরয়ি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া জরুরি। শুধু অসুস্থতা, বয়স বা পারিবারিক ইচ্ছার কারণে কাউকে বদলি হজে পাঠালেই তা যথেষ্ট নয়। যার পক্ষ থেকে হজ করা হবে এবং যিনি হজ করবেন—উভয়ের ক্ষেত্রেই কিছু বিষয় দেখতে হয়।
১.
যার পক্ষ থেকে হজ হবে, তাঁর ওপর হজ ফরজ হয়ে থাকতে হবে
ফরজ বদলি হজের ক্ষেত্রে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে যে মূল ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হয়েছিল। আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামর্থ্য হওয়ার আগেই কেউ ইন্তেকাল করলে তাঁর ক্ষেত্রে ফরজ হজের দায় একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
২.
জীবিত হলে অক্ষমতা স্থায়ী হতে হবে
জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ তখনই বিবেচনা করা হয়, যখন তিনি অতিবৃদ্ধ বা এমন স্থায়ী অসুস্থতায় ভুগছেন যার কারণে ভবিষ্যতেও নিজে হজ করার বাস্তবসম্মত আশা নেই। সাময়িক অসুস্থতা, কাজের ব্যস্ততা বা ছুটি না পাওয়াকে বদলি হজের কারণ ধরা যায় না।
৩.
জীবিত ব্যক্তির অনুমতি থাকতে হবে
স্থায়ীভাবে অক্ষম জীবিত ব্যক্তির ফরজ বদলি হজ হলে তাঁর অনুমতি বা নির্দেশ নিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করা উচিত। তিনি কার মাধ্যমে হজ করাবেন এবং কীভাবে খরচ হবে, সেটিও আগে পরিষ্কার রাখা ভালো।
৪.
বদলি হজকারী মুসলিম ও শরয়ি দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে হবে
যিনি অন্যের পক্ষ থেকে হজ করবেন, তাঁকে মুসলিম, সুস্থ মস্তিষ্কের এবং হজের আমল সম্পন্ন করার মতো সক্ষম হতে হবে। শুধু সৌদি আরবে থাকা বা আগে মক্কায় যাওয়া কাউকে বদলি হজের জন্য যথেষ্ট যোগ্য করে না।
৫.
নিজের ফরজ হজ আগে আদায় করা থাকা উত্তম
রাসুলুল্লাহ ﷺ একজন ব্যক্তিকে “শুবরুমাহ”-এর পক্ষ থেকে তালবিয়া বলতে শুনে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি নিজের হজ করেছেন কি না। তিনি ‘না’ বললে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“حُجَّ عَنْ نَفْسِكَ ثُمَّ حُجَّ عَنْ شُبْرُمَةَ”
অর্থ: “প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে হজ করো, এরপর শুবরুমাহর পক্ষ থেকে হজ করো।”
সুনান আবু দাউদ, হাদিস ১৮১১। আলবানী হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
৬.
নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে
ইহরামে প্রবেশের সময় থেকেই বদলি হজকারীকে পরিষ্কারভাবে জানতে হবে তিনি কার পক্ষ থেকে হজ করছেন। নিয়ত অন্তরের বিষয়; মুখে নাম বলা আবশ্যক নয়। তবে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকেই ফরজ বদলি হজের নিয়ত করতে হবে।
৭.
হজের প্রয়োজনীয় মাসআলা জানা থাকতে হবে
বদলি হজকারীকে ইহরাম, মিকাত, আরাফায় অবস্থান, মুযদালিফা, জামারাত, তাওয়াফ, সাঈ, হাদি ও দমের মৌলিক বিধান জানতে হবে। কারণ কোনো গুরুত্বপূর্ণ রুকন বা ওয়াজিব ভুলভাবে সম্পন্ন হলে পুরো হজের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
৮.
খরচ ও অসিয়তের বিধান পরিষ্কার হতে হবে
জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ হলে খরচের ব্যবস্থা আগে ঠিক করা উচিত। মৃত ব্যক্তি বদলি হজের অসিয়ত করে গেলে তাঁর দেনা ও প্রয়োজনীয় খরচ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের সীমার মধ্যে অসিয়ত কার্যকর করার বিধান রয়েছে। পরিস্থিতি ভেদে এ বিষয়ে আলাদা মাসআলা হতে পারে।
৯.
একটি বদলি হজ একজনের পক্ষ থেকেই হতে হবে
একই হজকে একসঙ্গে বাবা, মা ও অন্য আত্মীয়ের ফরজ বদলি হজ হিসেবে ধরা যাবে না। একটি ফরজ বদলি হজ একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকেই আদায় করতে হবে। এসব শর্তের কোনোটি নিয়ে সন্দেহ থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে এগিয়ে না গিয়ে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির মাসআলা জেনে নেওয়া ভালো।
ধাপে ধাপে বদলি হজ আদায়ের সঠিক পদ্ধতি
বদলি হজের জন্য আলাদা কোনো তাওয়াফ, আলাদা আরাফা বা বিশেষ হজের রুকন নেই। মূল হজের নিয়মই পালন করতে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—নিয়ত কার পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।
ধাপ ১: আগে নিশ্চিত করুন বদলি হজের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না
ব্যক্তিগত পরিস্থিতি জটিল হলে একজন নির্ভরযোগ্য মুফতির কাছ থেকে মাসআলা জেনে নেওয়া ভালো। শুরুতেই দেখতে হবে যার পক্ষ থেকে হজ করা হবে—
তাঁর ওপর হজ ফরজ হয়েছিল কি না;
তিনি জীবিত না মৃত;
জীবিত হলে তাঁর অক্ষমতা স্থায়ী কি না;
মৃত হলে কোনো অসিয়ত রয়েছে কি না;
অর্থের উৎস কী।
ধাপ ২: যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করুন
এমন কাউকে নির্বাচন করুন যিনি নিজের ফরজ হজ করেছেন, হজের বিধান বোঝেন এবং দায়িত্ব পালনে বিশ্বস্ত। কম খরচে কে হজ করে দেবেন—শুধু এ বিবেচনায় প্রতিনিধি নির্বাচন করা উচিত নয়।
ধাপ ৩: জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাঁর অনুমতি নিন
জীবিত কিন্তু স্থায়ীভাবে অক্ষম ব্যক্তির ফরজ হজ তাঁর পক্ষ থেকে করা হলে তাঁর অনুমতি বা নিয়োগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। হানাফি ফিকহের শর্তাবলিতেও প্রতিনিধিকে নিয়োগ করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ধাপ ৪: বদলি হজের খরচ নির্ধারণ করুন
হানাফি ফিকহে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে ফরজ বদলি হজের প্রতিনিধি করে পাঠালে মূল খরচের অধিকাংশ যিনি বদলি হজ করাচ্ছেন তাঁর দিক থেকে বহন করার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিনিধি নিজের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু যোগ করলে হজ নষ্ট হয়ে যায় না।
অন্যদিকে মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলে তাঁর সন্তান বা আত্মীয় নিজের অর্থ দিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে হজ বা হজের সওয়াব পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। তাই অর্থায়নের বিধান পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে।
ধাপ ৫: মিকাতের আগে ইহরাম ও সঠিক নিয়ত করুন
বদলি হজকারী মিকাত অতিক্রম করার আগে শরিয়ত অনুযায়ী ইহরাম গ্রহণ করবেন এবং যার পক্ষ থেকে হজ করছেন তাঁকে মনে নির্দিষ্ট করবেন। নিয়ত অন্তরের বিষয়। নির্দিষ্ট কোনো আরবি বাক্য বলা ফরজ নয়। চাইলে বলতে পারেন:
“لَبَّيْكَ حَجًّا عَنْ فُلَانٍ”
অর্থ:“আমি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের জন্য হাজির।” এখানে “ফুলান” অর্থ অমুক ব্যক্তি। যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে তাঁকে মনে নির্দিষ্ট করাই আসল।
ধাপ ৬: কোন ধরনের হজ করা হবে তা আগে ঠিক করুন
যিনি বদলি হজের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট হানাফি ফিকহের বিধান অনুযায়ী ইফরাদ, কিরান বা তামাত্তুর মধ্যে উপযুক্ত ধরন নির্ধারণ করতে হবে। যেমন, মৃত ব্যক্তি তাঁর সম্পদ থেকে ফরজ বদলি হজের অসিয়ত করে গেলে এবং আলাদা কোনো নির্দেশ না থাকলে হজে ইফরাদকে ভিত্তি ধরে ব্যয় করার কথা হানাফি ফতোয়ায় পাওয়া যায়। কিরান বা তামাত্তু করতে হলে যিনি নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর অনুমতির প্রশ্ন আসতে পারে।
ধাপ ৭: ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান
হজের নিয়ম অনুযায়ী মিনায় গিয়ে নির্ধারিত আমল সম্পন্ন করবেন। বদলি হজকারী শুরু থেকেই যে ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইহরাম গ্রহণ করেছেন, সেই নিয়তেই হজ চালিয়ে যাবেন।
ধাপ ৮: ৯ জিলহজ আরাফায় অবস্থান
আরাফায় অবস্থান হজের মৌলিক রুকন। নির্ধারিত সময়ে আরাফায় উপস্থিত থাকা অপরিহার্য। বদলি হজের ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যতিক্রম নেই।
ধাপ ৯: মুযদালিফা ও মিনার আমল সম্পন্ন করুন
আরাফা থেকে মুযদালিফায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট আমল করবেন। এরপর মিনায় ফিরে শরিয়ত নির্ধারিত সময়ে জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হাদি বা কুরবানির বিধান পালন করবেন।
ধাপ ১০: তাওয়াফে জিয়ারাহ ও সাঈ সম্পন্ন করুন
তাওয়াফে জিয়ারাহ হজের অপরিহার্য আমল। নির্ধারিত নিয়মে এটি সম্পন্ন করতে হবে। যে ধরনের হজ করা হচ্ছে এবং পূর্ববর্তী সাঈয়ের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় সাঈও সম্পন্ন করবেন।
ধাপ ১১: পরবর্তী দিনের জামারাত ও বিদায়ী তাওয়াফ
১১ ও ১২ জিলহজ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ১৩ জিলহজের নির্ধারিত আমল সম্পন্ন করবেন। মক্কা ত্যাগের আগে যাঁর ওপর তাওয়াফুল বিদা প্রযোজ্য, তিনি সেটিও সম্পন্ন করবেন।
বদলি হজের কুরবানি কার নামে হবে?
এখানে সাধারণ ঈদুল আজহার কুরবানি এবং হজের হাদি এক বিষয় নয়। বদলি হজকারী যদি হজে তামাত্তু বা কিরান করেন, তাহলে সেই হজের কারণে হাদি ওয়াজিব হয়; হজে ইফরাদে তা বাধ্যতামূলক নয়। তাই একে শুধু “মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানি” বলা ঠিক নয়—এটি মূলত যে হজ আদায় করা হচ্ছে তার একটি বিধান। খরচ কার অর্থ থেকে হবে, তা বদলি হজের নির্দেশ, অসিয়ত ও অর্থায়নের অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে।
নারী কি পুরুষের বদলি হজ করতে পারবেন?
হ্যাঁ। খাসআম গোত্রের নারীর হাদিসেই দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ ﷺ একজন নারীকে তাঁর বৃদ্ধ বাবার পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতি দিয়েছেন। তাই একজন নারী পুরুষের পক্ষ থেকে এবং একজন পুরুষ নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ করতে পারেন। হানাফি ফিকহেও পুরুষের পক্ষ থেকে নারীর বা নারীর পক্ষ থেকে পুরুষের বদলি হজকে বৈধ বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে বদলি হজ করাতে যেসব ভুল এড়ানো দরকার
বাংলাদেশে বদলি হজের ক্ষেত্রে কয়েকটি ভুল ধারণা বিশেষভাবে এড়িয়ে চলা দরকার।
সাময়িক অসুস্থতাকে স্থায়ী অক্ষমতা মনে করা: কয়েক মাস অসুস্থ থাকা বা অপারেশন হওয়া মানেই বদলি হজের সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন নয়।
শুধু কম খরচ দেখে প্রতিনিধি নির্বাচন করা: হজের জ্ঞান ও বিশ্বস্ততা না দেখে শুধু খরচ বিবেচনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
নিজের হজ না করা ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া: হানাফি ফিকহে হজ সহিহ হওয়ার অবকাশ থাকলেও আগে নিজের ফরজ হজ করেছেন এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করা বেশি নিরাপদ।
এক হজে কয়েকজনের ফরজ হজ আদায় করার চেষ্টা করা: ফরজ বদলি হজে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ত করতে হবে।
অসিয়ত ও উত্তরাধিকার না বুঝে টাকা নেওয়া: মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে হজের অর্থ নেওয়ার আগে অসিয়ত, ঋণ ও এক-তৃতীয়াংশের বিধান বুঝতে হবে।
বদলি হজকে ব্যবসা বানানো: হানাফি ফিকহে বদলি হজ সম্পাদনের বিনিময়ে আলাদা লাভ নেওয়ার বিষয়ে নিষেধ উল্লেখ করা হয়েছে; তবে প্রতিনিধির প্রয়োজনীয় সফর ও হজের খরচ বহন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে বদলি হজের প্রস্তুতি ও শরিয়াহ গাইডেন্সে হিজাজ হজ্জ ওমরাহ লিমিটেড
শরিয়তে কিছু গ্রহণযোগ্য ওজরের ক্ষেত্রে মিনার বাইরে থাকার অনুমতি রয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ হাজীদের
পানি সরবরাহের
দায়িত্বে থাকা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মক্কায় রাত কাটানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। হাদিসে এসেছে:
বদলি হজের ক্ষেত্রে শুধু টিকিট, হোটেল বা সৌদি আরবের যাত্রা নিশ্চিত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। আগে পরিষ্কার হতে হয়—কার পক্ষ থেকে হজ করা হবে, ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে বদলি হজ শরিয়তসম্মত কি না, প্রতিনিধি কে হবেন, নিয়ত কীভাবে হবে এবং হজের কোন ধাপে কী বিধান মানতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে বদলি হজের প্রস্তুতিতে হিজাজ হজ্জ ওমরাহ লিমিটেড হজযাত্রী ও পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় শরিয়াহ গাইডেন্স, হজ প্রস্তুতি, হজ প্যাকেজসংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং যাত্রার বিভিন্ন ধাপ বুঝতে সহায়তা করে। বিশেষ করে অসুস্থতা, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ, অসিয়ত, খরচের উৎস বা প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা থাকলে আগে নির্ভরযোগ্য আলেম বা শরিয়াহ পরামর্শকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মাসআলা জেনে নেওয়া ভালো।
বদলি হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। তাই শুধু কম খরচ বা সহজ ব্যবস্থার দিকে না তাকিয়ে সঠিক নিয়ত, যোগ্য প্রতিনিধি এবং হজের বিধান ঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বদলি হজের প্রস্তুতি, হজ প্যাকেজ ও শরিয়াহ গাইডেন্স সম্পর্কে জানতে কল করুন ০১৩৩৫১৮৫৫২২।
বদলি হজ শুধু একটি প্যাকেজ নয়, এটি একটি আমানত
বদলি হজে একজন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের দায়িত্ব অন্য একজনের হাতে দেওয়া হয়। তাই কে সবচেয়ে কম খরচে যাবে, কোথায় থাকবে বা কয় দিনের প্যাকেজ —এসবের পাশাপাশি আরও বড় প্রশ্ন হলো, মানুষটি দায়িত্বটি ঠিকভাবে পালন করবেন কি না। তাঁর নিয়ত পরিষ্কার কি না, হজের বিধান জানেন কি না, মিকাত থেকে শুরু করে আরাফা, মুযদালিফা, মিনা, তাওয়াফ ও সাঈ পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আমল সঠিকভাবে করবেন কি না—এসবই দেখতে হবে।
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর হককে ঋণ পরিশোধের সঙ্গে তুলনা করে এর গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। শরিয়তের শর্ত পূরণ করে বদলি হজ আদায় করা হলে মূল ব্যক্তির হজের দায়িত্ব আদায়ের উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার আশা করা যায়। আর ইবাদত কবুল হওয়া ও সওয়াব দেওয়া সম্পূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাধীন।
বদলি হজ নিয়ে অনেকেরই কিছু সাধারণ প্রশ্ন থাকে—কার পক্ষ থেকে করা যাবে, কে করতে পারবেন, নিয়ত কীভাবে হবে বা মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কী বিধান প্রযোজ্য। নিচে কুরআন, হাদিস ও ফিকহের আলোকে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া হলো।
শরয়ি যোগ্যতা পূরণকারী একজন মুসলিম অন্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ করতে পারেন। ভালো হয় এমন কাউকে নির্বাচন করা, যিনি নিজের ফরজ হজ আগে আদায় করেছেন, হজের ফরজ-ওয়াজিব ও প্রয়োজনীয় মাসআলা জানেন এবং দায়িত্বটি আমানত হিসেবে পালন করবেন। আত্মীয় হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; বিশ্বস্ত অন্য মুসলিমও বদলি হজ করতে পারেন।
বদলি হজে কুরবানি বা হাদি নির্ভর করে কোন ধরনের হজ করা হচ্ছে তার ওপর। হজে তামাত্তু বা কিরান করলে হাদি ওয়াজিব হয়, কিন্তু হজে ইফরাদ করলে শুধু হজের কারণে হাদি ওয়াজিব হয় না। তাই “বদলি হজ হলেই অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে”—এভাবে বলা ঠিক নয়।
হজের ফরজিয়াত কুরআনে স্পষ্টভাবে এসেছে। আর অন্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ করার সরাসরি দলিল সহিহ হাদিসে পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ স্থায়ীভাবে অক্ষম বৃদ্ধ বাবার পক্ষ থেকে তাঁর মেয়েকে হজ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং মৃত মায়ের পক্ষ থেকে হজ করারও নির্দেশ দিয়েছেন। তাই শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে বদলি হজ বৈধ।
হ্যাঁ, পারবেন। সহিহ বুখারির ১৫১৩ নম্বর হাদিসে খাসআম গোত্রের এক নারী তাঁর অতিবৃদ্ধ বাবার পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতি চেয়েছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে অনুমতি দেন। এখান থেকে বোঝা যায়, নারী পুরুষের পক্ষ থেকে এবং পুরুষ নারীর পক্ষ থেকেও বদলি হজ করতে পারেন।
শুবরুমাহর হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথমে নিজের হজ এবং পরে অন্যের পক্ষ থেকে হজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হানাফি ফিকহে নিজের ফরজ হজ না করা ব্যক্তির মাধ্যমে বদলি হজ কিছু ক্ষেত্রে সহিহ হওয়ার আলোচনা আছে, তবে এমন ব্যক্তিকে পাঠানো মাকরুহ বা অনুত্তম বলা হয়েছে। তাই নিজের ফরজ হজ আগে সম্পন্ন করেছেন এমন ব্যক্তিকে বদলি হজের দায়িত্ব দেওয়া উত্তম ও বেশি নিরাপদ।
না, আরবিতে মুখে নিয়ত বলা আবশ্যক নয়। নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও সংকল্প। ইহরামে প্রবেশের সময় যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে তাঁকে মনে নির্দিষ্ট করাই আসল। চাইলে তাঁর নাম উল্লেখ করে মুখেও নিয়ত প্রকাশ করা যেতে পারে।
একটি ফরজ বদলি হজ একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকেই করতে হবে। একই হজকে বাবা, মা বা একাধিক ব্যক্তির আলাদা ফরজ হজ হিসেবে একসঙ্গে গণ্য করা ঠিক নয়। তবে নফল ইবাদতের সওয়াব একাধিক ব্যক্তিকে পৌঁছানোর বিষয়টি আলাদা ফিকহি আলোচনা।
না, বদলি হজকারী আত্মীয় হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ছেলে, মেয়ে, ভাই, বোন বা অন্য আত্মীয় যেমন করতে পারেন, তেমনি শরয়ি যোগ্যতা পূরণকারী বিশ্বস্ত অন্য মুসলিমও বদলি হজ করতে পারেন। মূল বিষয় হলো তাঁর নিয়ত, যোগ্যতা, হজের জ্ঞান এবং দায়িত্বশীলতা।
সাধারণভাবে সাময়িক অসুস্থতার কারণে তাড়াহুড়া করে বদলি হজের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন স্থায়ী অক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যার কারণে ভবিষ্যতেও নিজের হজ করার বাস্তবসম্মত আশা নেই। সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে অপেক্ষা করা এবং পরে নিজে হজ করা উচিত।
সেরা হজ্জ প্যাকেজ বেছে নিন
সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য হজ্জ প্যাকেজ জানতে এখনই ফোন করুন।
Find your nearby Hajj & Umrah agency associated with Bangladesh. Identify the trusted Umrah agents in your area and get in touch with them to facilitate your next holy journey to Makkah and Madina.